সাহিত্য ও ঐতিহ্য মাহিগঞ্জ, রংপুর • সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সাহিত্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান
রংপুরের সাহিত্য আন্দোলন • প্রতিষ্ঠিত ২০১৭

মাহিগঞ্জ সাহিত্য সংসদ

ঐতিহ্যের নীলায় সাহিত্যের জয়গান

উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জনপদ রংপুরের মাহিগঞ্জ থেকে বাংলা ভাষার লালন, সাহিত্যের সৃজনশীল বিকাশ ও তরুণ প্রজন্মের মননশীল চর্চায় নিবেদিত একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সাহিত্য প্রতিষ্ঠান।

“এমন জায়গায় আমরা কিছু তরুণ সাহিত্যপ্রেমী গড়ে তুলেছি মাহিগঞ্জ সাহিত্য সংসদ।”
মাহিগঞ্জ সাহিত্য সংসদ লোগো
masasbd.blogspot.com • ঐতিহ্যের নীলায় সাহিত্যের জয়গান

সাম্প্রতিক প্রকাশনা

সর্বশেষ প্রকাশিত সাহিত্যকর্ম
আমাদের লেখা

সেরা যত সাহিত্যকর্ম

কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ও অন্যান্য মননশীল সাহিত্যকর্ম সরাসরি এখান থেকে পড়ুন।

স্নেহাশিস ও ভালোবাসা | তাছনীম বিন আহসান | Bangla Kobita | বাংলা কবিতা
🗓️ সোমবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৫ ✍️ Tasneem Bin Ahsan

স্নেহাশিস ও ভালোবাসা | তাছনীম বিন আহসান | Bangla Kobita | বাংলা কবিতা

 

স্নেহাশিস ও ভালোবাসা

- তাছনীম বিন আহসান


তোমরা যারা,
রঙিন চশমার পেছন থেকে আমার হাসি দেখো,
কিম্বা স্যুটের কাঁধে ঝুলে থাকা ক্লান্তির রেখা,
তোমরা কি জানো—
আমার বুকের ভেতর অজস্র অরণ্য ডাকে?

আমি অফিসের লিফটে উঠে দেখি,
একেকটা জীর্ণ মুখ যেন সফরের মানচিত্র,
তবু কারো চোখে লেখা থাকে না
আমার নামহীন বিষাদের গল্প-
আকা থাকে রংহীন হাসি।

তোমরা যারা,
ড্রইং রুমের ঝকঝকে সোফায় বসে
আমার কথার ব্যাকরণ খোঁজো,
কিংবা ভাবো,
এই নীরবতা হয়তো কোনো বড়ো কূটচালের নাম—
ভুল ভাবো।

আমি তো সেই ছোট্ট শিশুটি,
যে রঙিন বেলুন রেখে আসে
ভীড়ে ভরা চৌরাস্তার ধারে।
আমি তো সেই বৃষ্টিস্নাত বিকেল,
যার গায়ে এয়ার কন্ডিশনের শীতলতা জমে না।

আমার অন্তর—
গগনচুম্বী টাওয়ারের কাঁচে ঘষা অভিজাত জানালা নয়,
বরং অখ্যাত রেল স্টেশনের ফাঁকা প্ল্যাটফর্ম,
যেখানে অপেক্ষা করে শুধু বাতাসের নিঃসঙ্গ শব্দ।

তোমরা যারা,
ক্যালেন্ডারের পাতায় আমার জন্মদিন মনে রাখো,
কিন্তু ভুলে যাও কোন মৌসুমে আমার দুঃখ ফোটে-
কোন ঋতুতে আমি কি খেতে ভালোবাসি,
তোমরা নিঃসন্দেহে বড়ো অবুঝ,
মেঘের ভেতর তারা খোঁজার চেষ্টায় ব্যস্ত অবুঝ শিশুর মতো।

আমি তো দিনশেষে সেই অক্লান্ত বাউণ্ডুলে যাত্রী,
ক্লান্ত কর্পোরেট ইমেইলের ভেতর থেকেও,
যে ভুল করে লিখে ফেলে একফোঁটা কবিতা-
সাবজেক্ট লাইনে।

আমি তো সেই অন্ধকারে আলো খোঁজা ছেলেটি,
যার পকেটে পুরনো চিঠির পাশে ভাজ করা থাকে-
অদেখা স্বপ্নদের ভিড়।

তোমরা যারা,
আমার চুপচাপ হেঁটে যাওয়া দেখে ভেবে বসো,
আমি হয়তো খুব খুশি—
ভুল করো।
কিছু মুসাফির মিসকিন হয়েই বাচে,
শুধু চুপচাপ হেটেই চলে,
আর জেনে রাখো;
চুপ করে হাঁটা মানে তো কাঁদার আরেক নাম,
শুধু শব্দের মুখোশ পরে থাকে মৌনতা।

তোমরা যারা,
আমার টাইয়ের নটের আঁটসাঁট ভাব-
আর ধোপদুরস্ত কাপড় দেখে ভেবেছো,
আমার হৃদয় বুঝি জমাট—
ভুল করো।
উপরটাতা শুধু জলছাপ,
আর ভেতর "শিশির পড়া সকালের মতো নরম"।

আমাকে বুঝতে গেলে-
অফিসের কার্ড সোয়াইপের হিসাব নয়,
ছাদভরা নক্ষত্র গুনতে শিখতে হয়।
শিখতে হয় চোখের প্রতিবিম্বের ভাষা-
আমি সীমানাহীন এক মহাদেশ,
না-দেখা উপত্যকার নাম,
ভুল করে গাওয়া প্রাগৈতিহাসিক গীতের সুর।

আমি ইতিহাসের হারানো এক নাম,
বাতাসের কাঁধে ভেসে যাওয়া রুপকথার গল্প,
পায়ে হাঁটা পুরনো স্বপ্নের পথ।

তোমরা যারা আমার বাহিরে তাকিয়ে
অন্তরের ম্যাপ আঁকতে চাও—
বাহির ছুঁয়ে ভেতর খুঁজো—
তোমরা আসলে চাঁদের বৃষ্টিতে ভেজা,
মুগ্ধ একদল পথভোলা নিস্পাপ শিশু।


#তাছনীম



চিরন্তন | তাছনীম বিন আহসান | বাংলা কবিতা
🗓️ রবিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৫ ✍️ Tasneem Bin Ahsan

চিরন্তন | তাছনীম বিন আহসান | বাংলা কবিতা

 *চিরন্তন*

- তাছনীম বিন আহসান 




নদীর স্রোত কত স্বপ্ন বহন করে!

রাজার কেল্লা, কৃষকের ঘাম—

আর সিন্ধুর ঢেউয়ে মিশেছে যে প্রেম,

যুদ্ধ শেষে নিস্তব্ধ রাতে, কত কণ্ঠস্বর থেমে যায়,

সময়ের গহ্বরে বীরের নামও ঝাপসা হয়ে যায়।

তবু মহাকাল কেবল এক নামেই ডাক দেয়—প্রেম।


ব্যাবিলনের স্তম্ভে জমে থাকা রক্তের গন্ধ,  

মহাকালের কণ্ঠে ভেসে আসে দাসত্বের আর্তনাদ—  

চোখে আঁধার, বুকে জমাট মৃত্যুর মতো ঠাণ্ডা,  

চাষির হালে বাঁধা স্বপ্ন-

শিল্পীর তুলির আঁচড়ে ওঠে দিগন্তজোড়া চিত্রপট।

ক্লান্ত পথিক তবু পথেই মরে,

সে বাঁচে কেবল এক আশায়—প্রেম।


শিল্পীর তুলিতে আঁকা এক ছবি,

কবির কবিতায় লেখা এক গান,

রাত শেষে ব্যথিত গানের সুর থেমে যায়,

কারো নেই কিছুই বলার, সমাজ আজও গভীর ঘুমে,

দরিদ্র বালক এখনো উপোসে শোয়, অভাবের গল্প মিশে যায়।

তবু মানুষ চায় কেবল এক সান্ত্বনা—প্রেম।


শোষকের দম্ভভরা হাসি, বঞ্চিত জনের দীর্ঘশ্বাস-

মায়ের কোলে মাথা রেখে শান্তি খুঁজি,

বাবার ছায়ায় জীবনের পথ দেখি,

বন্ধুর সাথে সুখ-দুঃখ ভাগ করি,

নিয়তির খেলা বুঝতে গিয়ে জ্ঞানের শেকলে বাঁধি প্রাণ,

স্বপ্নের দামে বিকায় মানুষ, দুঃখ সাজায় নতুন গান।

তবু অন্তর খোজে কেবল এক ভাষা—প্রেম।


আজও রাজপথে দাঁড়িয়ে ক্রীতদাস কয়,‘আমরা কারো নই’

কৃষকের মুখে জমাট কষ্ট, সময়ের খেলা বড় নির্মম!

আকাশের তারা একে একে নিভে যায় যন্ত্রণা বুকে,

বিচারকের গম্ভীর বাক্য, সত্য মিথ্যার কাঁটায় বন্দি,

উদ্বাস্তু শিশুর কান্না শুধু বাতাস বয়ে নিয়ে চলে,

এক বেলা ভাতের স্বপ্ন দেখে সে,

প্রভাতে রোদের আলো ফোটে, আঁধার জমে থাকে চোখে।

তবু সে দেখতে চায় কেবল এক আলোতে—প্রেম।


যুদ্ধক্ষেত্রে পতাকা ওড়ে, কত রক্তে ভিজে একাকার,

কত নারীর স্বপ্ন ছিঁড়ে বীরের গল্প লেখা হয়!

রক্তমাখা সূর্য ওঠে, কিন্তু জীবন ফেরে না,

দুর্বলের কান্না লুকিয়ে থাকে রাজনীতির ছলনায়!

তবু মানুষ হাঁটে কেবল এক পথ ধরে—প্রেম।


শহর, গ্রাম, রাজপথে তৈরি হয় ইতিহাসের চিত্রনাট্য,

একই ঘুর্ণিতে বারবার হারায় মানুষের অস্থায়ী সত্য।

নদীর মত সময় বয়ে যায়, সব হারিয়ে যায় অতলান্তে,

মাটি জানে, জীবন জানে, আর হবে না নীড়।

তবু সে গড়ে কেবল এক স্বপ্ন—প্রেম।


অভিমানী কবির কলম থামে সমাজের ছলনায়,

ভিক্ষুকের রুটি কেড়ে নেয় কেউ,

কিন্তু মন্দির-মসজিদ একসাথে বলে, ‘মানুষ হলো সবার আগে’,

অন্যায়-নীতির বেড়াজালে আবদ্ধ সভ্যতা, 

তবু সে জাগে কেবল এক বিশ্বাসে—প্রেম।


অরণ্যের পশুও জানে ভালোবাসা, মানুষ কেন বোঝে না?

ক্ষমতার নেশায় বুদ তারা, তবু মাটির ডাক শোনে না।

কৃষকের ঘামে জন্ম নেয় যে ধান, শোষকেরা লুটে খায়,

কবির কলমে জন্ম নেয় যে কাব্য, মুর্খেরা ভুলে যায়,

তবু ঈশ্বরের করুণা বৃষ্টি হয়ে ফেরে আশার আশ্রয়ে।

যা পেয়েছি তার জন্য কৃতজ্ঞ আমি,

যা আছে তাই নিয়ে আমি সুখী,

সর্বশেষ আকাঙ্খা শুধু—প্রেম।

সহ্যের আড়ালে | তাছনীম বিন আহসান | Bangla Kobita
🗓️ এপ্রিল ২০, ২০২৫ ✍️ Tasneem Bin Ahsan

সহ্যের আড়ালে | তাছনীম বিন আহসান | Bangla Kobita

 সহ্যের আড়ালে 

- তাছনীম বিন আহসান 





বাস্তিলের প্রাচীর ভেঙে তারা রক্তে লিখেছিলো ইতিহাস, আমার রক্তপাত শুধু সিগন্যালের গ্লানি, নীরব অগ্নুৎপাত —

জালিয়ানওয়ালার গুলি আজকে ফোটে সেলফির ফ্রেমে,  

লাঞ্ছিত চোখে স্বাধীনতা শ্বাস নেয়, ঠিক মেট্রোর ইস্পাত— 

ট্রয় নগরী পোড়ানোর পর নুতুন এক অ্যাথেন্স জেগেছিলো,  

ভাঙা টেবিলে আমার কবিতার খাতা, ফাঁকা ক্যাফেতে শুন্যতা কাঁপছিলো—  

তবুও আশা ধ্বংসের আগুনে পুড়ে নতুন সূর্য উঠবেই।


প্রাচীন গুহা থেকে বেরিয়ে মানুষ আগুন জ্বেলেছিলো,  

মানুষ আমি খুঁজি মেমোরি কার্ডে লুকোনো আদিম ক্রোধের ছাই— 

মায়ান পিরামিডের চূড়ায় বলি দেয়া নিস্পাপ কত হৃদয়,  

আজকের বলিদান শ্রমিকের, আর সহজ সরলতাই— 

ফরাসি বিপ্লবের গিলোটিনে কাটা মাথা হেসেছিলো ধুলায়,  

আমার গলা ঢোকে নীল টাই-এর ফাঁসে, হাসি দুঃখ ব্যাথায়—  

তবুও আশা ধ্বংসের আগুনে পুড়ে নতুন সূর্য উঠবেই।


স্পার্টাকাসের দাসত্ব-জ্বরা আজকে ডেলিভারি বয়ের ঘামে,  

"রেটিং" নামক নতুন কুঠার কাটছে গর্বের হাড়-মাংস—  

মহাভারতের যুদ্ধশালা আজকে বাসের সিটে, অফিস রাজনীতিতে,  

পাওয়ার পয়েন্ট স্লাইড এখন জীবনের অংশ—  

জলের দামে বিকোয় নীল নদ, ই-কমার্সের কার্নিভালে,  

মোনালিসার হাসিও আজকে ডেলিভারি বক্সে, অফার সেলে —  

তবুও আশা ধ্বংসের আগুনে পুড়ে নতুন সূর্য উঠবেই।

নুতুন মুখ আসবে, নুতুন ইতিহাস রচনা হবে, আরেকবার-

নুতুন করে সবাই সত্যিকারের সমাজ গড়বে আবার।


#তাছনীম

বিপ্রতীপ খেয়াল | তাছনীম বিন আহসান | বাংলা কবিতা
🗓️ শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৫ ✍️ Tasneem Bin Ahsan

বিপ্রতীপ খেয়াল | তাছনীম বিন আহসান | বাংলা কবিতা

 বিপ্রতীপ খেয়াল

- তাছনীম বিন আহসান



নিস্পাপ সাজতে পারার মাঝেও কৃতিত্ব আছে,

বড় অপরাধী হতে গেলে মায়া মাখা মুখ লাগে,

লাগে হাসতে হাসতে প্রিয় জনের বুকে ছুড়ি চালানোর ক্ষমতা,

ওসব খুব কম মানুষকে দিয়েছেন বিধাতা,

এ পৃথিবীতে সহজ মানুষের সংখ্যাই বেশী,

তবুও অন্যায় দেখে দেখে কেটে যায় দিন,

যুদ্ধ হত্যায় ছেয়ে যাওয়া সবুজ পৃথিবি,

সহজ মানুষের দল সহ্য করেই বাচে,

নির্যাতিত হয় কিছু সংখ্যক আমানুষের কবলে,

তবুও সহজ মানুষের দল দিন শেষে খুশি-


চোখ বন্ধ রাখলেও অন্যায় থেমে থাকে না,

সেই প্রাচীন গুহায়ও ছিলো রক্তের দাগ,

ভাতের হাঁড়ি ফুটলেও থাকে ঢাকনা চাপা,

বুকের গভীরে চাপা কান্না শোনে না কেউ,

ভেঙে যাওয়া খেলনা নিয়ে যে শিশু কাদে,

সে-ই বড় হয়ে খোঁজে একটা অটুট পৃথিবী,

মাটি চষে যে কৃষক ফলায় ফসল,

তার ছায়া পড়ে না শহরের রুক্ষ পথে,

নিরাপদ সন্ধ্যা বলে কিছু নেই বহু জনপদে,

তবুও সহজ মানুষের দল দুঃখ নিয়েই খুশি-


ভবঘুরে যে বৃদ্ধ রোজ বসে নির্দিষ্ট গাছতলায়,

যেন বুদ্ধের মত, নির্বাক—তবু জ্ঞানভারে নুয়ে পরা,

বিপন্ন মুখের ভাষা মুছে যায় সময়ের আবডালে,

তবু লিপিকারেরা লেখে ইতিহাস, ভুল-সঠিক মিশিয়ে,

প্রাচীন সভ্যতাগুলো যেমন নিমেষেই ভেঙেছিল,

তেমনই ভেঙে পড়ে বিশ্বাস, চোখের পলকে,

ঘরে ফেরার যে পথ, সে পথেও কাঁটার বাধা,

মুলত আলোর নিচেই বেশি অন্ধকার থাকে,

সব ভুলে গিয়ে মায়ের কোলে ঘুমায় সন্তানেরা,

আর সহজ মানুষের দল অল্প পেয়েও খুশি-


পাথরে খোদাই করা মুখ মুলত পাথর নয়,

সেও ছিল একদিন মুগ্ধতার কাহিনি,

চিৎকার না করেও প্রতিবাদ করা যায়,

অন্তরে ঘৃনা করা নিম্নস্তরের প্রতিবাদ, 

ছেঁড়া কাঁথায় লুকানো থাকে জগতের সত্য,

বিলাসিতা নয়, শান্তি চায় যেই অন্তর, 

যুদ্ধ শেষে যে কুকুর রাস্তা বেরোয়,

তার চোখে লেখা থাকে ক্ষুধা,

প্রতিদিনই ভাঙে শত প্রেম অগোছালো শহরে,

তবুও হাল না ছাড়া সহজ মানুষের দল খুশি-


পথের ধুলোয় যারা লিখে যায় জীবন,

তাদের নাম লেখা থাকে না কোন বইয়ে,

মুসাফিরের ক্লান্ত মুখেও থাকে কিছু আলো,

যেমন সন্ধ্যার আগে রঙ বদলায় আকাশ।

পথিক জানে রাস্তা কখনো শেষ হয় না,

তবুও হাঁটে—যেন হাঁটাটাই আসল সত্য।

পিছু ফিরে তাকালে দেখা যায় ছায়া,

তবে সামনে হাঁটলে দেখা যায় ভবিষ্যৎ,

দিন শেষে মুলত শুধু নিঃশ্বাসটা সত্য,

তবুও সহজ মানুষের দল ওইটুকুতেই খুশি-

খুঁজে ফিরি | তাছনীম বিন আহসান
🗓️ সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৩ ✍️ Tasneem Bin Ahsan

খুঁজে ফিরি | তাছনীম বিন আহসান

  খুঁজে ফিরি

- তাছনীম বিন আহসান 



মিষ্টি সকালে শুদ্ধ রোদে

দেখি বুনো ফুল,

ও দয়াময় ক্ষমা করো

আমার অনেক ভুল।


বনওকরার রঙিন ফুলেরও

আছে রুক্ষ শুষ্ক ফল, 

বিবেক থেকেও অমানুষ 

আমি করি কত ছল।


পাপের সাগরে হারিয়ে আজ

পাইনা কিনার কুল,

ও দয়াময় ক্ষমা করো

আমার অনেক ভুল।


আধার রাতে চোখে দিও

অবাধ অশ্রু জল,

সিজদা যেন হয় সর্বদা

তোমার চরন তল।


গাফুর রহমান রহিম তুমি

আমরা পাপীকুল,

ও দয়াময় ক্ষমা করো

মোদের অনেক ভুল।

কবিতা | মনের মানচিত্র  | তাছনীম বিন আহসান
🗓️ বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৩ ✍️ Tasneem Bin Ahsan

কবিতা | মনের মানচিত্র | তাছনীম বিন আহসান

 মনের মানচিত্র

- তাছনীম বিন আহসান 



কিছু যাত্রা পথের শুরুতেই শেষ হয়ে যায়-

পিছুটান কিংবা ভালোবাসার নামে,

কিছু যাত্রা পথের শুরুতেই শেষ হয়ে যায়-

আলস্য কিংবা সমাজের দামে।


পথিকের পথের নেশা অবিনশ্বর,

হেটে যায় সে অজানা মোহনার পানে,

আপন কে পর করার বাসনায়।

পাগল গুলি খুঁজে পায় পরশ পাথর,

ফুল গুলি খুশি হয় ভোমরার গানে,

শুধু পথিকের সন্ধ্যা হয় অন্য আঙিনায়। 

প্রতিদিন আকাশে পুনর্জন্ম হয় তারার,

জোয়ার আসে জোছনার টানে,

দিন গোনে না কেউ পথিকের আশায়।


কিছু পথ সত্যিই শেষ হয়ে যায়-

দেশ কিংবা ঘৃনার নোংরা অহমে,

কিছু পথ সত্যিই শেষ হয়ে যায়-

কিন্তু পথিক কি সত্যিই থামে?



রাজত্ব | তাছনীম বিন আহসান | কবিতা
🗓️ শনিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৮ ✍️ Tasneem Bin Ahsan

রাজত্ব | তাছনীম বিন আহসান | কবিতা

রাজত্ব
- তাছনীম বিন আহসান

যে করেই হোক তোকে কাঁদাবোই আমি
যখন তখন ইচ্ছে মত যা না তাই বলে ,
কেননা কাঁদার পর ;
একটু আদর পেয়েই আরো কাছে আসিস
আমার বুকে মুখ লুকিয়ে বেশী ভালোবাসিস
তাইতো কাঁদাই নানা ছলে !!

যে করেই হোক তোকে রাগাবই আমি
গোপনে আর প্রকাশ্যে বাঁকা কথা বলে ,
কেননা রাগলেই ;
তোর তুষার শুভ্র গালে রাঙা সুর্য দেখি
ঐ গোলাপী আভায় অসংখ্য সুখ আঁকি
রাগাই তোকে ভালোবাসি বলে !!

যে করেই হোক তোকে হাসি মুখে রাখবই আমি
হাজার কষ্ট সমস্যা থাকলে বা না থাকলে ,
কেননা তুই হাসলেই ;
আমার পৃথিবীটা আলোয় ভরে উঠে
শত কষ্টেও আমার মুখে হাসি ফোটে
ভালো থাকি তুই হাসলে !!


চিত্র ০১ | তাছনীম বিন আহসান | কবিতা
🗓️ নভেম্বর ২৪, ২০১৮ ✍️ Tasneem Bin Ahsan

চিত্র ০১ | তাছনীম বিন আহসান | কবিতা

চিত্র ০১ 
- তাছনীম বিন আহসান

বিস্তৃত সবুজের মাঝে
রক্ত রাঙা শিমুল গাছ আজও আছে ,
শালিক আর বুলবুল পাখি
ফাল্গুনের মিষ্টি সকাল গুলা
আজও মুখর করে বসে শিমুল গাছে !

চোখে সবুজের সৌন্দর্য
গায়ে বসন্তের আদর বাতাস মেখে ,
চাইলে ছুটে চলে যাওয়া যায়
শহর ছেড়ে দুরের কোনো গ্রামে
যান্ত্রিক ব্যাস্ততার জীবন পেছনে রেখে !

শান্ত সরলতা মাখা
চঞ্চল কিশোরীর হাসি ভরা মুখ ,
গ্রাম্য নির্জনতা চুর্ন করে
তার সাথে পাল্লা দেয় কোকিল
শহুরে মনে যেসব কল্পনার সুখ !



:) র.ই.প :) 

📖 মাহিগঞ্জ সাহিত্য সংসদ
🗓️ নভেম্বর ২৪, ২০১৮ ✍️ Tasneem Bin Ahsan

হ-য-ব-র-ল (ক) | তাছনীম বিন আহসান | কবিতা

হ-য-ব-র-ল (ক) | তাছনীম বিন আহসান | কবিতা

যদি ভুল করেও দুটি চাঁদ উকি দিতো পৃথিবীর আকাশে ,
গোলাপ গুলো হতো দুর্গন্ধযুক্ত আর পাখি গুলো সব বোবা ,
তাহলে আমিও তোমায় চাইতাম না !

যদি রাত গুলোয় আলোর বন্যা হতো আর দিন হতো আঁধার ,
যদি বিল্লিটা ডাকতো ঘেউ ঘেউ আর কুকুরটা মিউ মিউ ,
তাহলে একটা মুহুর্তও তোমায় ভাবতাম না !
অবগাহন | তাছনীম বিন আহসান | কবিতা
🗓️ নভেম্বর ২৪, ২০১৮ ✍️ Tasneem Bin Ahsan

অবগাহন | তাছনীম বিন আহসান | কবিতা

অবগাহন  -
তাছনীম বিন আহসান

কিছু স্বপ্ন তোর চোখ দিয়ে দেখি আমি
একটা লেবুর গাছ অন্য দিকে কয়েকটা বেলী
ছোট্ট এই রকম আঙিনা ...
জোছনা রাতে জানালার পাশে আমরা
বাহিরে হাসনাহেনার বড় একটা ঝোপ
নিশ্চুপ গল্পের রাত আর আদর ...

সমস্ত সত্তায় তোকে ধারন করি ভালোবেসে
সকালের সুর্য থেকে খয়েরি বিকেল
পুর্নিমা বা অমাবশ্যায় ...
আঁকার খাতা আর কবিতার প্রতিটা পদ
তোর মায়ায় ধোয়াশা মতন
ভিতর এবং বাহিরে ...


আমাদের পরিচয়

ঐতিহ্যবাহী মাহিগঞ্জ থেকে সাহিত্যের যাত্রা

ইতিহাস, ঐতিহ্য ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সাহিত্যের মাধ্যমে আঞ্চলিকতা সংরক্ষণ ও তার গৌরব উচ্চ স্থানে পৌঁছে দেওয়া।

“ঐতিহ্যের নীলায় সাহিত্যের জয়গান”

উত্তরবঙ্গের প্রাচীন সমৃদ্ধ জনপদ রংপুরের মাহিগঞ্জ থেকে বাংলা সাহিত্যের চর্চা, গবেষণা ও সৃজনশীল প্রতিভাকে এগিয়ে নিতে মাহিগঞ্জ সাহিত্য সংসদ (MASAS) প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও অলাভজনক সাহিত্য সংগঠন।

সংগঠনের উদ্যোগে নিয়মিত সাহিত্য আড্ডা, কবিতা পাঠের আসর, আলোচনা সভা, সাহিত্য সম্মেলন ও বইমেলার আয়োজন করা হয়। তরুণ ও প্রবীণ লেখকদের সেতুবন্ধন রচনার মাধ্যমে সাহিত্যের সুস্থ সাংস্কৃতিক বিকাশই আমাদের মূল লক্ষ্য।

🏛️ প্রধান লক্ষ্য: সাহিত্যের মাধ্যমে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আঞ্চলিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ
ঐতিহাসিক পটভূমি

মাহিগঞ্জের সাহিত্য ও মুদ্রণ ঐতিহ্য

রংপুরের প্রাচীন প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে মাহিগঞ্জের গৌরবময় ইতিহাস।

  1. 1769 ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক কেন্দ্র

    ১৭৬৯ সালে মাহিগঞ্জ রংপুরের প্রধান প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পরবর্তীকালে ১৮০৪ সাল পর্যন্ত এটিই ছিল রংপুরের কেন্দ্রীয় প্রাণকেন্দ্র।

  2. 1847 বাংলাদেশের প্রথম ছাপাখানা ও ‘রঙ্গপুর বার্ত্তাবহ’

    ১৮৪৭ সালের আগস্টে মাহিগঞ্জে কুণ্ডিতে রাজা শম্ভুচন্দ্র রায়ের অর্থায়নে বাংলাদেশের প্রথম মুদ্রণযন্ত্র ‘রঙ্গপুর বার্ত্তাবহ প্রেস’ স্থাপিত হয় এবং সেখান থেকেই বাংলা ভূখণ্ডের প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘রঙ্গপুর বার্ত্তাবহ’ প্রকাশিত হয়।

  3. 1856 নাট্যচর্চার নবজাগরণ ও ‘রঙ্গপুর নাট্যসমাজ’

    ১৮৫৬ সালে মাহিগঞ্জে তৎকালীন জমিদার ও বিদগ্ধ সমাজের উদ্যোগে নাট্যচর্চা ও সাহিত্য সভার নিয়মিত কার্যক্রম বিস্তার লাভ করে।

  4. 1860 রঙ্গপুর বার্তা ও সাময়িকপত্রের বিকাশ

    ১৮৬০ সালে মাহিগঞ্জ প্রেস থেকে নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রথম সাহিত্যিক প্রতিবাদ ও তথ্যচিত্র সংকলন প্রকাশিত হয়।

  5. 1970 মাহিগঞ্জ তাজহাট গ্রন্থাগার ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা

    বিংশ শতাব্দীতে মাহিগঞ্জ অঞ্চলের সাহিত্যিক ও শিক্ষকদের উদ্যোগে জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র ও আঞ্চলিক লাইব্রেরি আন্দোলন গড়ে ওঠে।

  6. 2010 মাহিগঞ্জ সাহিত্য সংসদের সূচনা

    মাহিগঞ্জের কয়েক শতাব্দী প্রাচীন সাহিত্য ও মুদ্রণ ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে তরুণ সাহিত্যপ্রেমীদের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে মাহিগঞ্জ সাহিত্য সংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে।

তথ্যসূত্র ও ঐতিহাসিক প্রামাণ্য দলিল:
  • ১. রঙ্গপুর বার্ত্তাবহ ও বাংলাদেশের সংবাদপত্র চর্চা — ড. মুহাম্মদ আব্দুল হাই ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র সংকলন।
  • ২. রংপুর জেলা তথ্য বাতায়ন ও মাহিগঞ্জ ইতিহাস সমিতি নথিপত্র।
সাংগঠনিক কাঠামো

আমাদের ফোরাম ও কার্যক্রম

সাহিত্য সৃষ্টি ও সাহিত্য পাঠ—উভয় ক্ষেত্রকে সুসংগঠিত রাখতে মাহিগঞ্জ সাহিত্য সংসদের দ্বি-মাত্রিক প্রয়াস।

✍️

লেখক ফোরাম (Writer Forum)

নতুন ও অভিজ্ঞ লেখকদের সাহিত্য সৃষ্টির মিলনমেলা। সৃষ্টিশীল লেখার উন্নয়ন ও দিকনির্দেশনা প্রদান।

  • মাসিক সাহিত্য আসর ও স্বরচিত কবিতা পাঠ
  • গল্প ও প্রবন্ধ লিখন কর্মশালা
  • পাণ্ডুলিপি পর্যালোচনা ও পরামর্শদান
লেখক ফোরামে যোগ দিন →
📖

পাঠক ফোরাম (Reader Forum)

বই পাঠে উৎসাহ বৃদ্ধি এবং পাঠ প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে সাহিত্যবোধকে শাণিত করার উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম।

  • নিয়মিত বই পর্যালোচনা ও পাঠচক্র
  • স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ প্রতিযোগিতা
  • সাহিত্য আড্ডা ও মুক্ত মতবিনিময়
পাঠক হিসেবে অংশ নিন →
📜

প্রকাশনা ও সাহিত্য পত্রিকা

মানসম্মত সাহিত্যকর্মকে মলাটবদ্ধ করে পাঠক সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া। নিয়মিত সাময়িকী প্রকাশনা।

  • অফিশিয়াল সাহিত্য সাময়িকী ‘আদিপ্রাণ’
  • বিশেষ সাহিত্য স্মারক ও উৎসব সংখ্যা
  • আঞ্চলিক সাহিত্যিকদের জীবনী ও সাহিত্য সংকলন
আদিপ্রাণ সম্পর্কে জানুন →

সাহিত্য সাময়িকী ‘আদিপ্রাণ’

মাহিগঞ্জ সাহিত্য সংসদের আনুষ্ঠানিক সাহিত্য পত্রিকা। কবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ ও সমকালীন ভাবনার সংকলন।

আদিপ্রাণ পাতা পড়ুন → ফেসবুক পেজ
যোগাযোগ ও অংশগ্রহণ

আমাদের সাথে যুক্ত হোন

আপনার লেখা পাঠাতে, ফোরামে যুক্ত হতে অথবা যেকোনো সাহিত্যিক জিজ্ঞাসায় যোগাযোগ করুন।

লেখা পাঠানোর নিয়মাবলী

  1. লেখা নির্বাচন স্বরচিত কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ বা সাহিত্য বিশ্লেষণ (সর্বোচ্চ ১৫০০ শব্দ)।
  2. লেখক পরিচিতি আপনার পুরো নাম, ঠিকানা এবং সংক্ষিপ্ত পরিচিতি সঙ্গে দিন।
  3. বার্তা প্রেরণ ডানপাশের ফর্ম ব্যবহার করে বার্তা পাঠান বা সরাসরি যোগাযোগ করুন।
📍 ঠিকানা: মাহিগঞ্জ, রংপুর, বাংলাদেশ
🌐 ফেসবুক পেজ: fb.com/MASASbd

বার্তা পাঠান

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *